রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সদস্যদের তালিকা জরুরি ভিত্তিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রেরণ করেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু আয়োজন এবং নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধে পরিপত্র-৯ এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেলের কার্যপরিধি অনুযায়ী গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ইসি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সেলের কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর করার জন্য সদস্যদের নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখায় পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সেলের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাবে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি সম্পন্ন হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং তা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্বাচনকালীন সংঘাত ও অনিয়ম প্রতিরোধ, এবং ভোটারদের নিরাপদভাবে ভোট প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করা। এ সেলের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ ভোটপরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন এ নির্দেশনার মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তদারকি, সদস্য তালিকা নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত প্রতিবেদন প্রদানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। এর ফলে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম তদারকি সহজতর হবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
এ ছাড়াও, সেলের সদস্যদের যথাযথ সমন্বয় ও কার্যক্রমের সঠিক তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসারে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই উদ্যোগ নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সুষ্ঠু কার্যক্রম নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী এলাকায় সদস্যদের নাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কার্যক্রম প্রতিবেদনসহ সঠিক তথ্যের মাধ্যমে কমিশন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
এভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে ইসি মনে করছে।