রাজনীতি ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি দোয়া মাহফিল শেষে এ যোগদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সদস্যদের দলভুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে রাজনৈতিক যোগদানের এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নতুন যোগদানকারীরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইয়াজদানী আলিম আল রাজি জজ-এর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।
যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— ভোলাহাট ১ নম্বর (ভোলাহাট) ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর রেজা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদিকুল ইসলাম। তাঁদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী বিএনপিতে শামিল হন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তারা নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা বিএনপির নীতিগত অবস্থান ও কর্মসূচির সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও অবস্থানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন। এই বিবেচনায় তারা দলীয়ভাবে বিএনপিতে যুক্ত হয়েছেন।
যোগদান শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আলমগীর রেজা ও আব্দুর রহমান বলেন, তারা বিএনপির ঘোষিত আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই তারা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে তারা স্থানীয় পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইয়াজদানী আলিম আল রাজি জজ নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষকে নিয়ে কাজ করে। তিনি বলেন, যারা দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শরিক হতে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন, তাদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন ও পুরোনো নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে এবং নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। রাজনৈতিকভাবে সচেতন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে মতবিনিময় করেন। দলীয় সূত্র জানায়, আগামী দিনে ভোলাহাট উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি দলের নেতাকর্মীদের অন্য দলে যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে নতুন যোগদানকারীদের সাংগঠনিক ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর। ভোলাহাট উপজেলায় সাম্প্রতিক এই যোগদান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।