অনলাইন ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন। সম্মেলন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং এর শিরোনাম নির্ধারিত হয়েছে ‘দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন: উচ্চশিক্ষার অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা (সার্চে ২০২৬)’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও গবেষক, পাশাপাশি কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
ইউজিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করছেন।
সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্ক দেশগুলোর মধ্যে ইউজিসির নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা।
তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে দুটি অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনের বিষয় ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা: শাসনব্যবস্থা, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি’ এবং দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয় ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পৃক্ততা’।
দ্বিতীয় দিনে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথ: সহযোগিতা, সংহতি ও নেটওয়ার্কিং, নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর এবং হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে উপাচার্যদের সঙ্গে সংলাপ।
শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে ‘ঢাকা উচ্চশিক্ষা ঘোষণা’ গ্রহণের মাধ্যমে সম্মেলন সমাপ্ত হবে।
সম্মেলনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর শিক্ষাবিদ ও নীতি নির্ধারকরা সমন্বিত পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আঞ্চলিক সংলাপ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।