জাতীয় ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে অচিরেই শরীয়াভিত্তিক ঋণ প্রদানের কার্যক্রম শুরু হবে।
উপদেষ্টা আজ তার ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে বলেন, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি জানান, ব্যাংকের পক্ষ থেকে শারীয়াহভিত্তিক ঋণ প্রক্রিয়া এই মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হবে।
শারীয়াভিত্তিক ঋণ এমন একটি আর্থিক প্রক্রিয়া যা ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এতে সুদ প্রথা প্রয়োগ করা হয় না এবং ঋণের লেনদেন সম্পূর্ণভাবে ইসলামী আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঋণ প্রবাসী কর্মীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ এটি সুদবিহীন অর্থায়নের সুযোগ প্রদান করে।
বাংলাদেশে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ঋণ ও আর্থিক সেবা প্রদান করছে। ব্যাংকটি মূলত প্রবাসী কর্মীদের পুনর্বাসন, বিনিয়োগ এবং ছোটখাটো ব্যবসা উদ্যোগের জন্য ঋণ প্রদানে সহায়তা করে থাকে। নতুন শারীয়াভিত্তিক ঋণ প্রক্রিয়া চালু হলে প্রবাসী কর্মীরা আরও বৈচিত্র্যময় আর্থিক সেবা থেকে উপকৃত হতে পারবেন।
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে ইসলামী অর্থনীতিবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহর পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে শীঘ্রই কার্যক্রমটি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সকল শাখায় চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি করতে পারে। শরীয়াভিত্তিক ঋণের সুবিধা প্রাপ্ত হলে প্রবাসীরা তাদের ব্যবসা বা বিনিয়োগ কার্যক্রমে সুদের চাপ ছাড়াই অংশ নিতে সক্ষম হবেন, যা অর্থনৈতিক সচলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া, এই ধরনের ঋণ ব্যবস্থা প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করতে পারে এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও সক্রিয় রাখতে সহায়তা করবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শারীয়াভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পুনর্বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।