রাজনীতি ডেস্ক
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ওই দলের কিছু কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের হাতে কাগজ দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলছেন। রুমীর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার শামিল।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া বাজার এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইসলামী শিক্ষানুযায়ী পরকালীন পুরস্কার বা শাস্তি নির্ধারণের মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের প্রচারণা ধর্মীয় বিশ্বাসকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে। রুমী আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি এবং ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে সব দলের বিরত থাকা উচিত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি একটি সক্রিয় বিরোধী শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে। তাঁর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের উপস্থিতি ও কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন ও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী তাঁর বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তাঁর মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি পেতে হবে। তিনি একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী প্রসঙ্গে রুমী বলেন, জাতীয়তাবাদী দল তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে এবং সে কারণে তিনি দলের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। তিনি বলেন, অতীতে তাঁর কোনো ভুলত্রুটি থাকলে জনগণ যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, নির্বাচনের দিন পরিবার-পরিজনসহ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। বিশেষ করে নারী ভোটার ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণকে তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তাই তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণও তাৎপর্যপূর্ণ।
দোয়া মাহফিলে কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুস সভাপতিত্ব করেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম মন্ডল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নওয়াব আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম শাতিল মাহমুদ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা কমিটির সাবেক সভানেত্রী অধ্যাপক সৈয়দ ফাহিমা বানু এবং জেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা নির্বাচনী পরিবেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।