রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় মগবাজারে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক শুরু করেছে। বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকটি জামায়াতের জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক কৌশল ও জোট সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ২৫৩ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১০ দলের সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছিল জামায়াত। সেই সময় তারা জানিয়েছিল যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।
তবে শুক্রবার দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এছাড়া বাকি ৩২ আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি ছাড়া সমমনা দলগুলোর প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের জোটবদ্ধতা ও সমঝোতা চেষ্টা দেশীয় রাজনীতিতে দলের প্রভাব ও আসনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে, নির্বাচনী মঞ্চে এককভাবে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য সমমনা দলের সঙ্গে সমন্বয় বা সমর্থনের সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতের জোট কাঠামো ও ভোট ভাগাভাগিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
জমায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহল ধারণা করছে, আগামী কয়েক দিনে নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত রূপ পাবে এবং নির্বাচনী মাঠে দলের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক ও সমঝোতার এই জটিল পরিপ্রেক্ষিত সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, জোটবদ্ধতা এবং প্রার্থীদের সমর্থন বিষয়ক সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় রাজনীতিতে জোট এবং সমঝোতার বিষয়গুলো ভোটের ফলাফল এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক নির্বাচন ও সমর্থন ঘোষণার ঘটনা জাতীয় নির্বাচনের রাজনৈতিক চিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।