আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সরকার গতকাল দেশজুড়ে বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সকল মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে দেশটির সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের নেতৃত্ব গতকাল নির্ধারিত সকল ফাঁসি বাতিল করেছে, যার সংখ্যা ৮০০-এর বেশি। আমি তাদের এ উদ্যোগের জন্য অত্যন্ত সম্মান জানাই।” এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে সতর্ক করেছিলেন যে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন করলে “গুরুতর পরিণতি” ঘটবে। বিশ্লেষকরা এই সতর্কবার্তাকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পেছনের আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের বড় দরপতনের প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভগুলোতে সাধারণ জনগণ আর্থিক দুরবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক দাবিও তুলে ধরেছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ’র তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার।
ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপ বিবেচনায় নেওয়া হলে ফাঁসির বাতিলাদেশ বিক্ষোভকারীদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইরান সংক্রান্ত সব নীতিগত সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখিত গোপন সূত্রের তথ্য নাকচ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, অর্থনৈতিক চাপ এবং ভেতরের জনগণের সমালোচনা বিবেচনায় নেওয়ার ফলাফল হতে পারে। যদিও বিক্ষোভ স্থির হয়নি এবং দেশের বিভিন্ন অংশে এখনও নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে, মৃত্যুদণ্ড বাতিল দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো, ইরানের সরকারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে। মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন যে শুধুমাত্র ফাঁসির বাতিল যথেষ্ট নয়; বিক্ষোভকারীদের ওপর চলমান অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত হতে হবে।