রাজনীতি ডেস্ক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বাদ আসর রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দলটির দপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার স্মরণে দেশব্যাপী বিএনপির সব সাংগঠনিক ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় সুবিধাজনক সময়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিতব্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেবেন। একইসঙ্গে বিএনপির জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোকে স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় বার্তায় বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের উক্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পান। তার নেতৃত্বে দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোর পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উদারীকরণ, বেসরকারি খাতের বিকাশ, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার সরকারের সময় গণমাধ্যম, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন সাধিত হয়, যা পরবর্তী সময় জাতীয় রাজনীতির গতিপথে প্রভাব বিস্তার করে।
বিএনপির দোয়া কর্মসূচি ঘোষণার পর শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় কমিটিগুলোর উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির অন্তর্গত থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো নিজ নিজ এলাকায় মসজিদ ও দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির অধীন ইউনিটগুলোও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সমন্বয় সভা সম্পন্ন করেছে। জেলা পর্যায়ে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত বিএনপির ইউনিটগুলো স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আলেম ও ইমামদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে।
এদিকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশের সব মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজনের আহ্বান জানায়। ফাউন্ডেশনের এক বার্তায় মসজিদভিত্তিক ইমাম ও খতিবদের জুমার নামাজের পর অথবা স্থানীয়ভাবে সুবিধাজনক সময়ে দোয়া পরিচালনার অনুরোধ করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই আহ্বানের ফলে দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি মসজিদগুলোতেও দোয়া অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, খুলনার শাহী জামে মসজিদ, সিলেটের শাহজালাল দরগাহ মসজিদসহ দেশের প্রধান প্রধান ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ইমাম ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানা যায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশিষ্ট কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর পর দলীয় ও সামাজিক পর্যায়ে মিলাদ ও দোয়া আয়োজন একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করে থাকে, যার মধ্য দিয়ে তারা ওই ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জনপরিসরে দলীয় সংহতির বার্তা তুলে ধরতে চায়। বিএনপির বর্তমান কর্মসূচিও দলের সাংগঠনিক ঐক্য ও তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। একইসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক দোয়ার আহ্বান ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে একটি সমন্বিত অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।
দেশব্যাপী একযোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সমাবেশ, জনসমাগম ও ধর্মীয় কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা ও স্থানীয় সমন্বয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সাধারণত এ ধরনের কর্মসূচিতে দলীয় শৃঙ্খলা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির ব্যবস্থাপনা, ইমামদের দোয়া পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে আয়োজন সম্পন্ন হয়ে থাকে। শুক্রবারের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিট ও স্থানীয় মসজিদ কমিটিগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্ব। তার নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল, সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে তার ভূমিকা জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। শুক্রবারের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে তার স্মরণে একটি সমন্বিত অংশগ্রহণের চিত্র দৃশ্যমান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।