1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
লুৎফুজ্জামান বাবর: র‍্যাব কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়নি বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর সম্পদ হালফনামা প্রকাশ সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদ ও আয়ের বিবরণী নিউইয়র্ক সিটিতে কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি তারেক রহমানের ফেসবুক পোস্টে মায়ের বিদায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমবেদনা বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ বই পেল প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা জামায়াত আমিরের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: দলের ব্যাখ্যা মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের বই বিতরণ উদ্বোধন নিউইয়র্কে ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানি দায়িত্বগ্রহণ জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

তারেক রহমানের ফেসবুক পোস্টে মায়ের বিদায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমবেদনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬ — বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন বছরের প্রথম দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সৃষ্ট শূন্যতার অনুভূতি এবং দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের সমবেদনার কথা তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে তিনি মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া, জনসমাগমে প্রদর্শিত শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

তারেক রহমান তার পোস্টে জানান, বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করেছেন। তিনি মাকে ‘জীবনের প্রথম শিক্ষক’ এবং ‘প্রথম শিক্ষাগুরু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শেষকৃত্য চলাকালে দেশের অগণিত নেতাকর্মী, পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তাকে একাকিত্ব থেকে রক্ষা করেছে। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষাধিক মানুষের সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদন প্রমাণ করে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ব্যক্তি-পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পরিসরে বিস্তৃত ছিল।

একই দিনে সকালেও পৃথক একটি পোস্ট দেন তারেক রহমান, যেখানে তিনি ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিরাপত্তা, প্রশাসন ও সমন্বয় কাজে নিয়োজিত সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অন্তিম যাত্রায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক আচরণের নজির স্থাপন করেছেন। পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আনসার ও ভিডিপি, এপিবিএন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকার কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নির্বিঘ্নে জানাজায় অংশ নিতে পেরেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে গেছেন—এমন তথ্যও পোস্টে উঠে আসে।

তারেক রহমানের বক্তব্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতার প্রসঙ্গও এসেছে। ডিজিএফআই, এনএসআই, স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ফলে দাফন-সংক্রান্ত আয়োজন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা, উপদেষ্টা দপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, এসএসএফ, এসএসএফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়মূলক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে সমবেদনা জানাতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বৈশ্বিক কূটনীতিকদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাদের সশরীরে অংশগ্রহণ বেগম খালেদা জিয়ার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও আন্তরিক তৎপরতায় বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে—এমন বার্তাও পোস্টে প্রতিফলিত হয়।

দাফন-সংক্রান্ত আয়োজন কভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গও তারেক রহমানের পোস্টে এসেছে। তিনি বলেন, কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত জনসমুদ্রের ভিড়ে সংবাদ সংগ্রহ ও সম্প্রচারের কাজ ছিল অত্যন্ত জটিল। প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীরা জানাজা ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছে দিয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিমণ্ডলেও দৃশ্যমান করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নিশ্চিত হয়। মৃত্যুর পরদিন ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ তারেক রহমানের পোস্টগুলো প্রকাশিত হয়। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিন মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি হন এবং ২০২০ সালে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে তিনি চিকিৎসাজনিত কারণে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা সীমিত করেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগসন্ধিক্ষণের সূচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। দলীয় পরিসরে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস, কর্মী-সমর্থকদের আবেগ ও রাজনৈতিক সমর্থনের পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক বার্তাবিনিময়—সব মিলিয়ে বিষয়টি ২০২৬ সালের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষকৃত্যে জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক সমবেদনা জানানোর এই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নেতার মৃত্যুর পরবর্তী জনপ্রতিক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় সমন্বয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com