আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি পবিত্র কোরআন হাতে শপথ গ্রহণ করেছেন। এটি নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মেয়র কোরআন হাতে শপথ গ্রহণের ঘটনা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে, যা ‘সোনালী যুগে’ নির্মিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি একটি নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হিসেবে আয়োজন করা হয়।
মেয়র মামদানি নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা ২০০ বছরের পুরনো কোরআনের কপি ব্যবহার করেননি। তিনি শপথ গ্রহণের এই স্থান বেছে নেওয়ার পেছনে যুক্তি দিয়েছেন, এটি এমন একটি শহরের স্মৃতিস্তম্ভ, যা একসময় সুন্দর হওয়ার সাহস দেখাত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলানোর মতো বড় কিছু গড়ে তুলত। তিনি বলেন, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র অতীতের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং এটি শহরের নীচের টানেলগুলোতেও জীবন্ত থাকা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য সম্মানের বিষয়।
মেয়র নির্বাচনের ভোটাভুটিতে ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রিও কুওমো এবং রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়ারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন। এ জয় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র করেছে। এছাড়া, ১০০ বছরের মধ্যে তিনি সিটির সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবেও পরিচিত।
মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের এই অনুষ্ঠান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমালোচনামূলক গুরুত্ব বহন করে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন নেতা বড় একটি মহানগরী পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এটি নিউইয়র্ক সিটির বহুত্ববাদী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
মেয়র মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বিশেষভাবে নজরে থাকবে। বিশেষ করে নগর উন্নয়ন, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তার প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো শহরের নাগরিক ও জাতীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি যে নতুন সাবওয়ে স্টেশনটিকে শপথ গ্রহণের জন্য বেছে নিয়েছেন, তা শ্রমজীবী মানুষদের ইতিহাস ও শহরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই শপথ গ্রহণ শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করে। নবনির্বাচিত মেয়রকে এখন শহরের আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে হবে। নিউইয়র্কের নাগরিকরা আশা করছেন, তিনি বহুত্ববাদী নীতির সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতাও প্রদর্শন করবেন, যা শহরের বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শপথ গ্রহণের এই অনুষ্ঠান এবং জোহরান মামদানির জয় শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নজরকাড়া ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের আগমন, সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রজন্মান্তরের প্রতীক হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।