রাজনীতি ডেস্ক
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জোটের প্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির শায়খ চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম তার নির্বাচনী হলফনামায় ব্যক্তিগত এবং পরিবারের সম্পদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার স্ত্রীর নামে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। এছাড়াও তার স্ত্রীর কাছে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ এবং বিভিন্ন খাতে মোট ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
ফয়জুল করিম নিজের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা এবং দাওয়াত কার্যক্রম উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী গৃহিণী এবং ব্যবসা করে থাকেন। হলফনামায় দেখা গেছে, ফয়জুল করিম অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে হাতে ৩১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা রাখলেও ব্যাংকে তার মাত্র ১ হাজার ১৭৬ টাকা জমা রয়েছে। তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো অর্থ নেই। স্ত্রীর স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পদের পাশাপাশি ফয়জুল করিমের নামে তিনটি মামলা রয়েছে। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি দেশে ভেতরের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বার্ষিক ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা, মাহফিল থেকে বছরে ৪ লাখ টাকা এবং শিক্ষকতা পেশা থেকে বছরে ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। এছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে ২২ বোরের একটি রাইফেল রয়েছে। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তিনি ১ হাজার ৬০ শতাংশ কৃষি জমি এবং ৩৭.৬০ শতাংশ অকৃষি জমি দেখিয়েছেন, যার মোট মূল্য ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ফয়জুল করিম ২ হাজার ৪৩৬ শতাংশ কৃষি জমি দেখিয়েছেন, যার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা। অকৃষি জমি দেখিয়েছেন ২.৪০ শতাংশ, যার মূল্য ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ টাকা। এছাড়াও তিনি পৈতৃক সূত্রে ৩৭.৬০ শতাংশ জমি পেয়েছেন। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বাণিজ্যিক ভবনের (দোকান) আয়তন ৬৬১ বর্গফুট এবং অ্যাপার্টমেন্ট (ফ্ল্যাট) ২ হাজার ১৩ বর্গফুট। এসব সম্পত্তির অর্জনকালীন সময়ের মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার ৭০৮ টাকা হলেও বর্তমান মূল্য ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফয়জুল করিম তার আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং সম্পদ ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯ হাজার ৯৩১ টাকা দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যার পরিমাণ ৯৬ হাজার ৪৭৫ টাকা। তার স্ত্রীর আয় ৬ লাখ টাকা এবং সম্পদ ৩২ লাখ ৬০ হাজার ২০০ টাকা দেখানো হয়েছে, আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা।
হলফনামায় প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যায়, প্রার্থী ও তার পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, আয় এবং ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকাশ করা হয়েছে। এই তথ্যের মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীর অর্থনৈতিক অবস্থা, আয় ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন।