আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি এবং দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল শুক্রবার সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মেক্সিকোর ভূকম্প গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি স্থান ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোস শহরের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। সান মার্কোস শহরটি আকাপুলকো থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার দূরে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মেক্সিকো সিটির সঙ্গে ঢাকার সময়ের পার্থক্য প্রায় ১২ ঘণ্টা। ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম সরকারি বাসভবন ন্যাশনাল প্যালেসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিং চলাকালীন ভূমিকম্প সতর্কতা সংকেত বাজার পর প্রেসিডেন্ট, সাংবাদিক ও অন্যান্য উপস্থিতরা হলকক্ষ ত্যাগ করেন। কিছুক্ষণ পর ব্রিফিং পুনরায় শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শিনবাউম জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদো’র সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌভাগ্যবশত ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটি, গুয়েরেরো বা দেশের অন্য কোথাও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
মেক্সিকো ভূমিকম্প-প্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ভূ-প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি যদিও মাঝারি মাত্রার, তবে ভূ-প্রকৃতিক এই ধরনের কম্পন এলাকা ভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জরুরি প্রস্তুতি এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণে রয়েছেন।
গুয়েরেরো রাজ্যের প্রশাসন স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কতা অবলম্বন করে জরুরি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ভূমিকম্প পরবর্তী প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অবকাঠামোগত কোনো বড় ধরণের ক্ষতি বা মানুষের আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সরকার এবং সিসমোলজিক্যাল সংস্থা জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন, বিশেষ করে পূর্ববর্তী ভূমিকম্প এবং আঞ্চলিক ভূ-গঠন বিবেচনা করে ভবিষ্যতের কম্পনের সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
ভূমিকম্পটির মাত্রা এবং গভীরতা থেকে প্রাথমিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, এতে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মেক্সিকো সিটির আধুনিক অবকাঠামো এবং ভূ-প্রতিরোধী নকশা ভূমিকম্পের প্রভাব কমাতে সহায়তা করেছে। তবুও পর্যটন শহর আকাপুলকো এবং সান মার্কোসের আশপাশের গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।
মেক্সিকোর ইতিহাসে ভূমিকম্পে জনজীবন এবং অবকাঠামোর উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। তাই প্রশাসন এবং নাগরিক উভয় পক্ষই জরুরি প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি সেবা, চিকিৎসা এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।