আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সাবেক বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মানবিক সফরের অংশ হিসেবে মিসরের রাফাহ সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তিনি সেখানে গাজায় কার্যক্রম পরিচালনা করা মানবাধিকার সংস্থা ও ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেখানে জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর অবিলম্বে ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
রাফাহ সীমান্তে জোলি স্থানীয় রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য ত্রাণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি একটি বড় গুদাম পরিদর্শন করেন যেখানে বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী রাখা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ গাজায় প্রবেশের অনুমতি পায়নি। এসব সামগ্রীর মধ্যে প্রধানত চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। জোলি বলেন, “প্রতিদিনের বিলম্ব মানুষকে জীবন থেকে বঞ্চিত করছে। খাদ্য, জ্বালানি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।”
চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবিক সংস্থা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গাজায় কার্যক্রম পরিচালনা করা সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হবে এবং নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। এই ঘোষণার পর ত্রাণ সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছে।
জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সতর্ক করেছে যে, মানবিক ত্রাণের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে গাজার বর্তমান দুর্যোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ইসরায়েল দাবি করেছে যে, এই নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ বিধি হামাসের আন্তর্জাতিক সহায়তার অপব্যবহার রোধ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক পর্যালোচনাতেও হামাসের মাধ্যমে ত্রাণ চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গাজা অঞ্চলে শীতের তীব্রতা এবং ভারী বৃষ্টিপাত মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। হামাস পরিচালিত সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের (জিএমও) তথ্য অনুযায়ী, প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির ফলে অস্থায়ী আশ্রয়ধনের ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে এবং ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযান এবং সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় অংশ নারী ও শিশু। একই সময়ে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। চলমান সংঘর্ষ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত অবকাঠামো এবং মানবিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা গাজার পরিস্থিতিকে চরম সংকটাপন্ন করেছে।
জোলি তার সফরের সময় শিথিলকরণের পরামর্শ দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং নিরাপদ ও অব্যাহতভাবে ত্রাণ প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক, যাতে মানুষ মৌলিক খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সামগ্রী দ্রুত পেতে পারে।