আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুয়েতে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও পোস্টের অভিযোগে সাত ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) কুয়েতের সাইবার ক্রাইম অপরাধ বিভাগের প্রতিনিধি দল তাদের গ্রেফতার করে।
সাইবার ক্রাইম বিভাগের জানানো মতে, ভিডিওতে দেখা গেছে একজন পুরুষ নারী পোশাক পরে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে নাচছেন এবং তার চারপাশে একাধিক সহযোগী উৎসাহ প্রদর্শন করছেন। ভিডিওতে পুরুষের পোশাকের সঙ্গে কুয়েতের এক দিনার ও নুস দিনারের নোট রাখা ছিল। ওই ভিডিও পরে ফেসবুক, টিকটক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়।
পরিদর্শকরা জানিয়েছেন, ভিডিওটি কুয়েতের মাতলা এলাকার একটি তাঁবুর ভিতরে রেকর্ড করা হয়। সেখানে উপস্থিত ভারতীয় নাগরিকরা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে লিপ্ত ছিলেন, যার মধ্যে ক্রস-ড্রেসিংও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভাগ বলেছে, এই কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি কুয়েতের আইন ও বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ভিডিওটি পোস্ট করা অ্যাকাউন্টের মালিককে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি স্বীকার করেছেন যে ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিরা চিত্রগ্রহণ ও পোস্ট করার সময় তার সঙ্গে ছিলেন। নিরাপত্তা জনিত কারণে ভিডিওতে উপস্থিত সব ব্যক্তিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। আইনজীবী এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কার্যক্রম রোধের জন্য সতর্কতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরও কুড়িয়েছে। বিশেষ করে এ ধরনের ঘটনা কুয়েতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং অনলাইন আচরণবিধির প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ দেশীয় আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ঘটনায় কুয়েতের সাইবার ক্রাইম বিভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং অশ্লীল বা আইনবিরোধী কনটেন্ট শনাক্ত ও বন্ধ করার উদ্যোগ আরও জোরদার করেছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, অনলাইন মাধ্যমে অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রচার একটি গুরুতর অপরাধ, যা আটক ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তিযোগ্য।
তদন্তকারীরা বলছেন, ভিডিওতে উপস্থিত সকল ব্যক্তি ইতোমধ্যেই আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কুয়েতের সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়া হবে। এই ঘটনা সামাজিক এবং আইনি প্রেক্ষাপটে কুয়েতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রে অনলাইন অশ্লীলতা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।