1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শুনানি নির্ধারিত, শেখ হাসিনাপুত্র জয় ও পলকের অভিযোগ মামলায় শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বাংলাদেশ হিন্দুকে অধিনায়ক বানাল, আমরা তাদের ক্রিকেটারকে সরালাম পাতানো নির্বাচন দেশের ধ্বংসের পথে :জামায়াত নায়েবে আমিরের আশঙ্কা ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আলি আর্দেসতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল ইইউ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বিএনপি ১৫ নেতার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে নবম পে-স্কেল বিষয়ে পূর্ণ কমিশনের সভা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে অংশ নিতে বাধ্য করার কোনও আইসিসি নির্দেশ নেই: বিসিবি

পাকিস্তান–চীন কৌশলগত সমন্বয় জোরদার, ৭৫ বছর পূর্তিতে কূটনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তান ও চীন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা, নীতি সমন্বয় এবং কৌশলগত যোগাযোগ আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনৈতিক সংযোগ, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি), দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সহযোগিতা, যোগাযোগ অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত অবস্থান এবং আঞ্চলিক শান্তি–স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করেছে যে, বৃহত্তর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের শান্তি, কৌশলগত স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পাকিস্তান–চীন বন্ধুত্ব একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।

২০২৬ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে ‘পাকিস্তান–চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর: যৌথ ভবিষ্যতের পথে’—এই কাঠামোকে সামনে রেখে বছরব্যাপী উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অর্থনৈতিক সংলাপ, জনকূটনীতি কার্যক্রম ও যৌথ উদযাপন আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। ১৯৫১ সালের ২১ মে চীন ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, যা এশীয় রাজনীতিতে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনিষ্ঠ আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের নজির হিসেবে বিবেচিত।

সিপিইসি প্রকল্প ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর ফ্ল্যাগশিপ অংশ, যার লক্ষ্য চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের কাশগর থেকে পাকিস্তানের গভীর সমুদ্রবন্দর গোয়াদর পর্যন্ত সড়ক, রেল, ডিজিটাল সংযোগ, শিল্প–বাণিজ্য অঞ্চল, জ্বালানি করিডোর ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই করিডোর ইতোমধ্যে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে ৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করেছে, একাধিক মহাসড়ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে গতি এনেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ–অর্থনৈতিক বিন্যাসে পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ–কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

বেইজিং সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় তিনি সিসিপির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের সফল আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানান। সিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন চীনের রাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক সংস্কার, নিরাপত্তা কৌশল ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নির্দেশনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলীয়–রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের মূল দিকনির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়।

এছাড়া, চীনের নির্বাহী ভাইস প্রিমিয়ার ডিং জুয়েক্সিয়াংয়ের সঙ্গেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে পাকিস্তান–চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করা, পারস্পরিক উন্নয়ন প্রকল্পে সমন্বয় বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অভিন্ন অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন–সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ডিং জুয়েক্সিয়াং বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, শিল্প সমন্বয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো নীতির অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী, যিনি বিআরআই–সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কৌশলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন।

চীনের আরেক শীর্ষ নির্বাহী—চীনা নির্বাহী ভাইস প্রিমিয়ার—পাকিস্তান–চীন সম্পর্ককে ‘পরীক্ষিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (All-Weather Strategic Cooperative Partnership) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই পরিভাষা চীনের কূটনীতিতে অত্যন্ত বিরল এবং কেবলমাত্র সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, যা নিরাপত্তা, রাজনীতি, অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতায় পারস্পরিক আস্থার সর্বোচ্চ স্তর নির্দেশ করে।

বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ—বিশেষ করে সীমান্ত স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তা, ডিজিটাল সংযোগ–নিরাপত্তা, সামুদ্রিক কৌশলগত ভারসাম্য এবং মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের চলমান ভূ–রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে অভিন্ন অবস্থান সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে ‘কোয়াড’ নিরাপত্তা কাঠামোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি, তাইওয়ান ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মেরুকরণ, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, মধ্য এশিয়ার জ্বালানি–বাণিজ্য প্রতিযোগিতা এবং আফগানিস্তানকেন্দ্রিক নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান–চীন সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও ক্রমেই আরও কাঠামোবদ্ধ রূপ নিচ্ছে।

দুই দেশ বাণিজ্য–ঘাটতি কমানো, স্থানীয় শিল্পে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষি–প্রযুক্তি, খনিজ অনুসন্ধান, আইসিটি, ৫জি অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ–সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা–প্রযুক্তি এবং জনকূটনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের রপ্তানিতে টেক্সটাইল, চামড়া, কৃষিজাত পণ্য, চাল, সামুদ্রিক খাদ্য ও খনিজ সম্পদের অংশ বাড়লেও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য–ভারসাম্য এখনো পাকিস্তানের আমদানি–নির্ভর কাঠামো দ্বারা প্রভাবিত। ফলে ভবিষ্যতে শুল্ক–সুবিধা, বাজার–প্রবেশ, যৌথ উৎপাদন, স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গোয়াদর বন্দরের পূর্ণ লজিস্টিক সক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্য–ভারসাম্য উন্নয়নের প্রশ্নটি নীতিগত আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭৫ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান–চীন সম্পর্ক এখন ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কাঠামো ছাড়িয়ে কৌশলগত–অর্থনৈতিক সংযোগ, বহুপক্ষীয় নীতি–সমন্বয়, নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব, অবকাঠামো–সমন্বিত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ–অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসে সমন্বিত অবস্থানের নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। ২০২৬ সালের উদযাপনকে কেন্দ্র করে এই সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগতভাবে সংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com