1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জুলাই আন্দোলনকে জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি, আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন অবাঞ্ছনীয়: চিফ প্রসিকিউটর বাংলাদেশ দল ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে শহিদ আফ্রিদির সমর্থন জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান নৌ উপদেষ্টার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই : ইসি সানাউল্লাহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভাজন চূড়ান্ত করতে জানুয়ারিতেই সম্পন্ন হবে: অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ২২৩.৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করলো সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংরক্ষণে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্তকরণের উদ্যোগ গভীর সমুদ্র গবেষণায় বাংলাদেশে সম্ভাবনা ও উদ্বেগের চিত্র স্পষ্ট দেশের পেমেন্ট সিস্টেমে আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ও বিদেশে অবস্থানরত ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন

সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করলে আদালত অবমাননার দায়

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদালত অবমাননার দায়ে আইনানুগভাবে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীদের সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত যে কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত মিডিয়া ফোকাল পার্সন অথবা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাই করতে হবে। ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়ে কোনো অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এর জন্য আইনানুগ দায় বহন করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে টেলিভিশন স্ক্রল, টিকার ও অন্যান্য মাধ্যমে এমন তথ্য প্রচার করা হয় যে, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ছুটিতে গেছেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি বেঞ্চ না পাওয়ার কারণে ছুটি নিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানায়, প্রচারিত এসব তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অসত্য ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচারের ফলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে, যা আদালতের মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে অসত্য তথ্য পরিবেশন শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং এটি আদালত অবমাননার মতো গুরুতর আইনি লঙ্ঘনের পর্যায়েও পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন মনে করে, সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে যথাযথ যাচাই করা হলে এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদের ছুটি ও বিচারকার্যে অনুপস্থিত থাকার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। এতে বলা হয়, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম তার মায়ের অসুস্থতার কারণে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছুটি গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সাময়িকভাবে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্পষ্ট করে উল্লেখ করে, এসব ছুটি বা অনুপস্থিতির সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারিত ভুল সংবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, বেঞ্চ গঠন, বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা ও বিচারপতিদের দায়িত্ব বণ্টনের মতো সিদ্ধান্তগুলো সংবিধান, আইনি কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতি অনুসারে পরিচালিত হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হলে তা আদালত, বিচারপ্রক্রিয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রতি জন-আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত, সুপ্রিম কোর্ট একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনে অতিরিক্ত সতর্কতা, নির্ভুলতা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন অত্যাবশ্যক।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদালত অবমাননার বিষয়টি শুধু ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যদি আদালত বা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অসত্য তথ্য এমনভাবে প্রচার করা হয়, যা জনমনে আদালতের অবস্থান বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিরূপ বা বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি করে। আদালত অবমাননা আইন ও সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টকে আদালত অবমাননার বিচার ও শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষমতার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা হয়— কোনো বক্তব্য বা তথ্য আদালতের কর্তৃত্ব, বিচারপ্রক্রিয়া, বিচারিক স্বাধীনতা বা মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না। সে কারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এ সতর্কবার্তা বিচারপ্রক্রিয়ার মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এতে সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে আদালত সংক্রান্ত তথ্য পরিবেশনে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জন-আস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষায় তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন ও আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা অপরিহার্য— বিজ্ঞপ্তিতে এমন অবস্থানের প্রতিফলন পাওয়া যায়। এই নির্দেশনার ফলে ভবিষ্যতে আদালত সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের আগে আনুষ্ঠানিক যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আরও দৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com