জাতীয় ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থী বা বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। এ ধরনের আপিলের শুনানি চূড়ান্তভাবে দালিলিক প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার আহমেদ এ তথ্য দেন। তিনি জানান, নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুবরণ হওয়ায় তাঁর তিনটি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে।
ইসি সচিব আরও বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আজ (৫ জানুয়ারি) থেকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরাই নয়, কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তার বিরুদ্ধেও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করার সময় অবশ্যই সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন তা পর্যালোচনা করে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অডিটরিয়ামে শুনানি সম্পন্ন করবে।
আখতার আহমেদ হলফনামা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংক্রান্ত জটিলতা বা হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কেও বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছেন। তারপরও যদি কোনো অসঙ্গতি থাকে বা কেউ সংক্ষুব্ধ হন, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আপিল করলে শুনানিতে তা পর্যালোচনা করা হবে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়েও তিনি জানান, গণমাধ্যমে কোনো খবর প্রকাশ হওয়া যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্টভাবে আপিল করলে কমিশন তা যাচাই-বাছাই করবে।
এভাবে কমিশন নিশ্চিত করছে যে মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত সকল আপিল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিয়মসঙ্গত এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে। এছাড়া নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সময় প্রার্থিতা সংক্রান্ত যে কোনো অসঙ্গতি বা বিতর্কের ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ থাকায় প্রার্থীরা তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবেন।
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কোনো প্রার্থী বা মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপন করলে, কমিশন তা পর্যায়ক্রমে যাচাই করে আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেবে। এটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।