আইন আদালত ডেস্ক
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত করার তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ১১ ডিসেম্বর জারি করা সংশ্লিষ্ট তফসিলের কার্যকারিতা স্থগিত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কোনো উল্লেখ নেই। তাই বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে না। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সর্বশেষ যে তফসিল জারি করা হয়েছে, তার মধ্যে নির্বাচনের দিন, ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং গণভোট সংক্রান্ত সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। তবে এ ধরনের রিটের প্রেক্ষিতে আদালতের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের রূপরেখা ও সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচনী কমিশন স্বাধীনভাবে তফসিল ঘোষণা করে থাকে। তবে আইনগত চ্যালেঞ্জ উঠলে আদালত তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেয়। এই রিট আবেদন সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
এই রিটের hearing হলে আদালত মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনা করবে: সংবিধান অনুযায়ী অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের বৈধতা, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের সম্ভাব্য জটিলতা, এবং নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার সীমা। আদালতের সিদ্ধান্ত সরাসরি নির্বাচনের পরিকল্পনা ও সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রিট নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি পদক্ষেপ। আইনজীবীরা বলছেন, রিটের ফলাফল দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংক্ষেপে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের তফসিল চ্যালেঞ্জ করা এই রিট বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, সংবিধানিক বৈধতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আদালতের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে এই নির্বাচনের রূপ ও সময়সূচি, যা দেশব্যাপী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।