আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের কাছে কিউবা কখনোই নতি স্বীকার করবে না এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই অব্যাহত রাখবে। রদ্রিগেজের দাবি, গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ওয়াশিংটন কিউবার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ ও আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতির মধ্যেও কিউবা তার নিজস্ব নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখবে।
রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমকে সমালোচনা করে বলেন, ‘গত ৬৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর বলপ্রয়োগ ও আগ্রাসন চালাচ্ছে। তারা সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অধিকার উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষমতার ভিত্তি তাদের বিশাল সামরিক শক্তি ও বৃহৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্মিত, পাশাপাশি দীর্ঘকালীন আগ্রাসন ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পক্ষে রয়েছে যুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং পুরো জাতির দেশপ্রেমিক চেতনা। আমরা কিউবানরা আমাদের দেশ বিক্রি করতে প্রস্তুত নই এবং কোনো হুমকি বা চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করব না।’ তিনি আরও জানান, হাভানা তার ‘অপরিহার্য অধিকার’ থেকে সরে আসবে না, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
রদ্রিগেজ উল্লেখ করেন, ‘আমরা কিউবাকে রক্ষা করব। যারা কিউবাকে চেনে, তারা জানে— এটি একটি দৃঢ়, স্পষ্ট এবং প্রমাণিত অঙ্গীকার।’ তিনি বলেন, কিউবা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার সার্বভৌমত্ব ও নীতি রক্ষায় অটল অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে ৫ জানুয়ারি রদ্রিগেজ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা সেলাককে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ও হুমকির বিরুদ্ধে অঞ্চলটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও কিউবার ওপর মনোযোগ দিচ্ছেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি কিউবার নাম উল্লেখ করে দেশটিকে ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রদ্রিগেজ আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, কিউবা তার নীতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারে অটল থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিউবার এই অবস্থান মূলত দীর্ঘদিন ধরে চলমান মার্কিন কিউবা নীতি এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে তৈরি। কিউবার এই ঘোষণার মাধ্যমে হাভানা তার আন্তর্জাতিক অধিকার রক্ষা এবং অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছে।
এই অবস্থান কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিউবার স্পষ্ট অবস্থান তাকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে সাহায্য করবে।

