আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের চলমান বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করতে এই ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাব্যতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
সেখানে ট্রাম্পের সামনে যেসব বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের প্রেক্ষিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে আছে। গত শনিবার এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “ইরান হয়তো ইতিহাসে কখনো না দেখা স্বাধীনতার মুখোমুখি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।”
ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে, মুদ্রা সংকটের প্রতিবাদে। এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আকার ধারণ করে। অনেক বিক্ষোভকারী দেশটির ‘কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা’ আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, এ পর্যন্ত অন্তত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা করেছেন, বড় আকারের বিক্ষোভের মুখে সরকার পিছু হটবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, “আমি খুব দৃঢ়ভাবে বলেছি—ওরা যদি আগের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, আমরা জড়িত হব। আমরা এমনভাবে আঘাত করব, যা ওদের সবচেয়ে বেশি ব্যথা দেবে। এর মানে স্থলবাহিনী পাঠানো নয়, কিন্তু কঠিন আঘাত।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের বিক্ষোভ, সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং গাজায় শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।
এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার আগে অঞ্চলে থাকা কমান্ডাররা আরও সময় চাইবেন—মার্কিন সামরিক অবস্থান সুসংহত করা এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির জন্য। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে, যা ইরানি জনগণকে সরকারের পক্ষে একত্রিত করতে পারে বা পাল্টা হামলার সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে সামরিক হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতার অংশ। গত জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের মাধ্যমে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়াতেও বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
২০২০ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলার নির্দেশ দেন, যাতে ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। কুদস বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অভিজাত ইউনিট। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বিবৃতি এবং বৈঠকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কড়া অবস্থান বজায় রাখছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ভারসাম্য রাখতে হবে—ইরানি সরকার বিক্ষোভ দমন করলে শাস্তি দেওয়া হবে, আবার একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে হবে। বর্তমানে প্রশাসন ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা এবং মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।

