আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকা: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। আজ রবিবার এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আদালতে এই আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খায়রুজ্জামান লিটন এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক হিসাবের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ২ (শ) ধারা অনুযায়ী অপরাধের আওতায় পড়ে।
আবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ব্যাংকে স্থানান্তর করেছে এবং তা সম্পদ অর্জন, ভোগ এবং বিলাসে ব্যবহার করছে। প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে বিষয়টির অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এবং অবৈধ অর্থ পাচার বা অন্যত্র স্থানান্তর প্রতিরোধের জন্য ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এর আগে, রাষ্ট্রের জারি করা দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে গত ৬ মার্চ আদালত খায়রুজ্জামান লিটন, তার স্ত্রী শাহীন আক্তার, মেয়ে আনিকা ফারিহা জামান এবং মেয়ে মায়সা সামিহার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এদিকে, খায়রুজ্জামান লিটন দীর্ঘদিন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আর্থিক অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আসছে। এই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের সিদ্ধান্ত অর্থ পাচার ও অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ অর্থ দ্রুত স্থানান্তর করতে পারবে না, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে।
সূত্র জানিয়েছে, সিআইডি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত লেনদেনের হিসাব, আর্থিক চালচলন ও সম্পদের উৎস যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধান চলাকালে ব্যাংক হিসাবগুলোতে থাকা অর্থ অবরুদ্ধ থাকায় অবৈধ লেনদেন সীমিত হবে এবং অভিযোগ তদন্তে সহায়ক প্রমাণ পাওয়া সহজ হবে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রম, সরকারি সংস্থার সহযোগিতা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বিচার বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। আগামী দিনে এই অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেশের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে একটি দিক নির্দেশক হতে পারে।