আইন আদালত ডেস্ক
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এই অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তার এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা জরুরি বলে দুদক আদালতের কাছে আবেদন জানায়। আবেদনের শুনানি শেষে আদালত ক্রোকের নির্দেশ দেন।
ক্রোকের আওতায় আনা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকার মহাখালী এলাকায় মমতাজ বেগমের নামে থাকা পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত পাঁচতলা ভবন। এছাড়া মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় পাঁচ শতক জমির ওপর অবস্থিত চারতলা ভবনও ক্রোকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় ২১ শতক জমিসহ একটি দুইতলা ভবন এবং একই এলাকায় ১ হাজার ৩১২ বর্গফুট আয়তনের আরেকটি দুইতলা ভবনও আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়েছে।
এছাড়াও পূর্বাচল নিউটাউন এলাকায় তার নামে থাকা নয় কাঠা জমি, মানিকগঞ্জে অবস্থিত ১২ শতক জমি এবং মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানাধীন এলাকায় ৪১২ শতক কৃষিজমি ক্রোকের আদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এসব সম্পত্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হস্তান্তর, বিক্রয় বা অন্য কোনোভাবে দখল পরিবর্তন করা যাবে না।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মমতাজ বেগম এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধানে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি হস্তান্তর বা গোপনের আশঙ্কা থাকায় আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ ধরনের ব্যবস্থা না নিলে অনুসন্ধানের স্বার্থ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানাধীন কোনো ব্যক্তির সম্পদের বিষয়ে আদালতের অনুমতিক্রমে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এতে করে তদন্তকালে সম্পদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে এবং ভবিষ্যতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয়। একই সঙ্গে এটি অনুসন্ধানের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশটি কেবল অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া অস্থায়ী পদক্ষেপ। অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্রোককৃত সম্পত্তির তালিকা সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা তত্ত্বাবধানে রাখতে বলা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও শুনানি ও আদেশ আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।