শিক্ষা ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নানা বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এবারের খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপন সীমিত ও নিস্তব্ধ হয়ে রয়েছে। বুধবার রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসের মেয়েদের হলগুলো বন্ধ রাখা হয় এবং বাইরের কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও অন্যান্য নিরাপত্তা টিমও মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তারা বাইরের কোনো যানবাহন বা ব্যক্তিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিতে যাচ্ছিলেন না। পূর্ববছরের মতো রাজু ভাস্কর্য এলাকায় শিক্ষার্থীদের জমায়েত দেখা যায়নি। টিএসসিতে পুলিশের উপস্থিতি ছিল।
এই পদক্ষেপগুলোর পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তিন দিনের শোক ঘোষণা উল্লেখ করা হয়েছে। শোক পালনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ও হলগুলোতে কোনো উদযাপন বা আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশিক বিল্লাহ বলেন, “আমাদের আজ কোনো আয়োজন নেই।” একইভাবে, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের উপ-প্রধান তাসনিম আক্তার আলিফ জানিয়েছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করায় আমাদের কোনো আয়োজন নেই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “এই শোকাবহ সময়ে খালেদা জিয়া ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জাতীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।”
প্রতিবছর নতুন বছর উদযাপনে শিক্ষার্থীরা ফানুশ উড়িয়ে ও আতশবাজি প্রদর্শন করে থাকে। তবে এবারের শোক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে আতশবাজি, ফানুশ ওড়ানো ও অন্য কোন উৎসবমুখর আয়োজন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রতিবছর ফানুশের আগুন ও আতশবাজির কারণে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ক্ষতি হয়। বিকট শব্দে অসংখ্য পাখি এবং মানুষের ক্ষতি হওয়ার ঘটনা ঘটে।”
এবারের খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপন মূলত শান্তিপূর্ণ ও শোকমুখর পরিবেশে সীমিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম ছিল এবং সাধারণ উদযাপন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শোক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছেও, প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন কোনো অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মানা হবে বলে জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বছর উদযাপনের জন্য পূর্ববছরের মতো বড় ধরনের সামাজিক বা সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে সীমিতভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারে, তবে তা প্রশাসনের অনুমোদিত নিরাপত্তা ও শোক নির্দেশিকা মেনে করতে হবে।
এর ফলে এবারের নববর্ষ উদযাপন ঢাবি ক্যাম্পাসে অতীতের উন্মুক্ত ও উৎসবমুখর আকার ধারণ করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের সাধারণ অভিজ্ঞতা ও সামাজিক মিলন অনুষ্ঠানের প্রভাবও সীমিত হয়েছে।