1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি: তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সহায়তা তালিকায় বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশ ক্র্যাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে মির্জা মেহেদী তমাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এই সরকারের আমলে চালু হবে না: বিমান উপদেষ্টা নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা কঠোর রাখতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশ বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাম জোট নেতাদের সাক্ষাৎ ইসি সচিব জানালেন মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রায়েরবাজার কবরস্থানে ৮ জুলাই আন্দোলনের শহীদের পরিচয় শনাক্ত সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করলে আদালত অবমাননার দায়

থানার অভ্যন্তরে হুমকিমূলক বক্তব্য: ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব গ্রেপ্তার

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

হবিগঞ্জ, ৩ জানুয়ারি ২০২৬: থানার অভ্যন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে হুমকি প্রদান ও সংগঠনের আদর্শবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানার একটি দল তাকে থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পূর্বের ঘটনার সূত্র ধরে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহদী হাসান হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। ওই সময় থানার অভ্যন্তরে অবস্থান করে তিনি নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে অতীতে সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জনপরিসরে আলোচনার কেন্দ্রে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, এবং আন্দোলনভিত্তিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান, বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে এমন বক্তব্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষত থানা, আদালত, বা প্রশাসনিক কার্যালয়ের মতো রাষ্ট্রীয় স্থাপনার অভ্যন্তরে সংঘটিত কোনো হুমকিমূলক আচরণ বা বক্তব্যকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এসব স্থাপনা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতীকী ও কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনামূলক চিঠি মাহদী হাসানকে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগের দিন (শুক্রবার) শায়েস্তাগঞ্জ থানায় তার প্রদত্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য সংগঠনের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা জনপরিসরে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। চিঠিতে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয় এবং স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে সংগঠনের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক আন্দোলনভিত্তিক সংগঠন নাগরিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং রাষ্ট্রীয় বৈষম্য নিরসনের মতো দাবিকে সামনে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সংগঠনের নেতৃত্ব কাঠামোতে সাধারণত সদস্যসচিব, আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহ্বায়ক, দপ্তর সম্পাদক, ও প্রচার সম্পাদকের মতো পদ থাকে, যারা মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়, সাংগঠনিক বার্তা প্রচার, এবং প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনভিত্তিক সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আদর্শগত সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নেতৃত্বের বক্তব্য ও আচরণ সরাসরি সংগঠনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করে।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্‌বিতণ্ডার সময় মাহদী হাসান অতীতে সংঘটিত সংঘাত ও সহিংসতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে হুমকিসূচক বক্তব্য প্রদান করছেন। যদিও ভিডিওর বক্তব্যের আইনি ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিকতা আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ, থানার অভ্যন্তরে এমন ভাষ্য প্রদান সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধানের আওতায় সরকারি দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিকে হুমকি প্রদানের অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ড আরোপের সুযোগ রয়েছে। থানা প্রাঙ্গণ ও অভ্যন্তরকে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে সংঘটিত অপরাধ সাধারণ জনপরিসরের অপরাধের তুলনায় অধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিচার্য হয়।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি হবিগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ছাত্র আন্দোলনভিত্তিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা, এবং সরকারি স্থাপনার অভ্যন্তরে আচরণবিধি পালনের প্রশ্নে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের হুমকি, উসকানিমূলক আচরণ, বা জনমনে ভীতি সঞ্চার করতে পারে এমন বক্তব্য প্রতিরোধে তারা জিরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

হবিগঞ্জ জেলা ভৌগোলিকভাবে সিলেট বিভাগের অন্তর্গত এবং এখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ছাত্র সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য ও আচরণ স্থানীয় জনমনে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

পুলিশ জানায়, মাহদী হাসানকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় মামলার আওতায় আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আদালতে উপস্থাপনের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া—জামিন, রিমান্ড, বা অভিযোগ গঠন—বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

এই ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা ও কর্তৃত্ব রক্ষা, আন্দোলনভিত্তিক নেতৃত্বের বক্তব্যের দায়বদ্ধতা, এবং সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিতের গুরুত্বকে পুনরায় সামনে এনেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোতে সামাজিক আন্দোলনের ভূমিকা স্বীকৃত হলেও সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হুমকি প্রদান বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এমন আচরণ আইনত দণ্ডনীয়—এই নীতিই বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com