1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি: তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সহায়তা তালিকায় বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশ ক্র্যাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে মির্জা মেহেদী তমাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এই সরকারের আমলে চালু হবে না: বিমান উপদেষ্টা নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা কঠোর রাখতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশ বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাম জোট নেতাদের সাক্ষাৎ ইসি সচিব জানালেন মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রায়েরবাজার কবরস্থানে ৮ জুলাই আন্দোলনের শহীদের পরিচয় শনাক্ত সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করলে আদালত অবমাননার দায়

ঢাকার ১৫ আসনে ১৩১ মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল ৬২

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীর ১৫টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ১৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬২টি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একটি মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট আসনসমূহের রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঢাকা মহানগরীর ১৩টি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সম্পন্ন হয় এবং বাকি দুই আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বাছাই কার্যক্রম শেষে শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা মহানগরীর ১৩টি আসনের জন্য মোট ২৫৩টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হলেও ১৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাই শেষে ১১৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ, ৫৪টি বাতিল এবং একটি স্থগিত রাখা হয়।

স্থগিত রাখা মনোনয়নপত্রটি ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফুল হকের, যিনি একটি সম্পূরক হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন। আবেদন বিবেচনায় তাকে অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হয়েছে বলে কমিশনার জানান। আশরাফুল হক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূরক হলফনামা জমা দিলে তা পুনরায় যাচাই করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ ব্যাখ্যায় শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, অধিকাংশ মনোনয়ন বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনসংক্রান্ত নথিতে ত্রুটি, ঋণখেলাপি হিসেবে শনাক্ত হওয়া, হলফনামায় প্রার্থীর স্বাক্ষরের ঘাটতি, জমাকৃত কাগজপত্রে অসংগতি, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা এবং দলীয় মনোনয়নপত্রে যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকার কারণে। এসব ত্রুটির মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন তালিকা ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত অসংগতি সর্বাধিক দেখা গেছে।

বাছাই কার্যক্রমের পৃথক পরিসংখ্যানে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের ফলাফল তুলে ধরেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী। তার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৩ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈধ মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র— উভয় ধরনের প্রার্থী থাকলেও বাতিলের তালিকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জানান, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নপত্র তুলনামূলক কম ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় অধিকাংশ দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা বাছাই পরবর্তী সামগ্রিক পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আপিল দায়ের করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আপিল বোর্ড যাচাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। আপিলে গৃহীত সিদ্ধান্তই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঢাকার আসনগুলোতে মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধতার এ পরিসংখ্যান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাঠামোকে প্রাথমিকভাবে প্রভাবিত করবে। রাজধানীর আসনগুলোতে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোটের লড়াই বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষত, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটি বড় অংশের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় অবশিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সমর্থক ভোটের একাংশ পুনর্বিন্যাস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, দলীয় প্রার্থীদের বৈধতার হার বেশি হওয়ায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা বাড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আপিল সময়সীমা শেষে ঢাকার ১৫ আসনের প্রার্থিতা তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং বৈধ প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচার-পরবর্তী ধাপে প্রার্থীদের ব্যয় বিবরণী ও আচরণবিধি প্রতিপালনের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় জানিয়েছে, বাছাই, আপিল ও প্রতীক বরাদ্দ— প্রতিটি ধাপেই প্রার্থীদের নথি ও তথ্য নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যাচাই করা হচ্ছে। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com