জ্বালানী ও শিল্প ডেস্ক
চলতি জানুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ভোক্তা বাজারে কীভাবে মূল্যবান্ধব থাকবে তা আজ জানা যাবে, যখন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিকেল ৩টায় নতুন এক মাসের জন্য এলপিজি মূল্যের হার ঘোষণা করবে। গত মাসের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কমিশন মূল্য নির্ধারণ করবে, যা আগের মাসের তুলনায় বাড়বে কি কমবে তা আজ নিশ্চিত করা হবে।
বিইআরসি এই ঘোষণা করেছে একটি অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকো ঘোষিত জানুয়ারি মাসের কন্ট্রাক্ট প্রাইসের ওপর ভিত্তি করে বেসরকারি এলপিজি দামের পরিমাপ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
আগের মাসে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের জন্য গ্রাহক পর্যায়ে এলপিজির দাম বিভিন্ন ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেসময় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের মূল্য ধরা হয়েছিল এক হাজার ২৫৩ টাকা। এছাড়া সাড়ে ১২ কেজির এলপিজির দাম ছিল এক হাজার ৩০৫ টাকা, ১৫ কেজির এক হাজার ৫৬৬ টাকা, ১৬ কেজির এক হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ কেজির এক হাজার ৮৮০ টাকা, ২০ কেজির দুই হাজার ৮৮ টাকা, ২২ কেজির দুই হাজার ২৯৮ টাকা, ২৫ কেজির দুই হাজার ৬১০ টাকা, ৩০ কেজির তিন হাজার ১৩৩ টাকা, ৩৩ কেজির তিন হাজার ৪৪৬ টাকা, ৩৫ কেজির তিন হাজার ৬৫৪ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল চার হাজার ৬৯৯ টাকা।
গত ডিসেম্বের শুরুর দিকে এই দামগুলো নির্ধারণের পর এলপিজি বাজারে বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেতাদের মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে কোনো সরকারি ঘোষণা ছাড়াই ১২ কেজি সক্ষমতার এলপিজি সিলিন্ডারটি ১ হাজার ২৫৩ টাকার স্থানে বাজারে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সরকারি সূত্র ও ব্যবসায়ী মহলের মন্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও এলসি (হারে স্থায়ী চুক্তি) জটিলতার কারণে এলপিজি আমদানি বিলম্বিত হওয়ার ফলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সংকটে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কমে আগ্রহী ক্রেতাদের চাপ তৈরি হয়েছে, যা অঘোষিতভাবে দাম বৃদ্ধি করেছে বলে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা জানিয়েছেন।
বাণিজ্য বিশ্লেষক ও জ্বালানি বিষয়ক উদ্যোক্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক এলপিজি বাজারে কাঁচামাল মূল্য ওঠানামা করলে তা সরাসরি বাংলাদেশে এলপিজি মূল্য কলামে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত সৌদি আরামকো কন্ট্রাক্ট প্রাইসের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তাই এই আন্তর্জাতিক মূল্য ও সরবরাহের দিক দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি ব্যয়ের ওপর চাপ ফেলতে পারে।
এলপিজি বাংলাদেশের বাড়ির রান্না, রেস্টুরেন্ট, ছোট ও মাঝারি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষত শীতকালে রান্নার জ্বালানির উচ্চ চাহিদা থাকায় এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য ওঠানামা ভোক্তাদের জীবনযাত্রা ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিইআরসি কমিশনার সম্প্রতি এক মন্তব্য করে জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও ভ্যাট-শুল্কসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টর বিবেচনা করে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে ডিসেম্বর মাসের জন্য দাম স্থির করা হলেও বাজারে বাস্তবিক চাহিদা ও প্রাপ্যতায় দাম অঘোষিতভাবে বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের মনিটরিং দলের কর্মকর্তারা বলেন, এলপিজি বাজারে স্বচ্ছতা আনতে ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিক ও বিতরণকারীগণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সম্মিলিতভাবে সরকারি নির্ধারিত মুল্য মেনে বাজারে বিক্রি করেন।
আজ বেলার সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, আমদানির ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সংশ্লিষ্ট ভ্যাট-শুল্কের পরিবর্তনসহ অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কেমন এসেছে এবং তা ভোক্তাদের জন্য কিভাবে প্রযোজ্য হবে।
এলপিজি ভোক্তাদের উপরে সামগ্রিকভাবে নতুন মূল্য ঘোষণা দেশজুড়ে রান্না জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে, বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন খরচে প্রভাব পড়বে কি পড়বে না— তা আজই পরিষ্কার হবে।