রাজনীতি ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কোনও মহল, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল জনগণের ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারবে না। তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা তার মূল অঙ্গীকার হবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুরে পাগল শংকর আশ্রমে বার্ষিক মহোৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
প্রার্থী বলেন, “ক্ষমতায় একেক সময় একেক দল আসলেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতন কমেনি। ২০১৮ সালে আমি যখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই, তখন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুর সংখ্যা শতকরা ২২ শতাংশ ছিল। তা কমে বর্তমানে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অস্বীকারযোগ্য ভূমিকা নেই।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের মন্দিরে হামলার ঘটনায় তিনি পরিদর্শন করেছেন। রামু, নাসিরনগর, বানারিপাড়া, কুমিল্লা ও রংপুরে গিয়ে স্থানীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত সরাইল ও আশুগঞ্জে উগ্রতা বা বিশৃঙ্খলা নেই।
রুমিন ফারহানা দেশের বহুত্ববাদী ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করছে। আমরা চাই এই সম্প্রীতি অটুট থাকুক। এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য যেমন বাউল গান, কীর্তন, তেমন ওয়াজ মাহফিলেও ফুটে ওঠে।”
তিনি জনগণকে সতর্ক ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সত্য ও ন্যায়ের স্বার্থে, চাঁদাবাজি, মামলা বা ব্যবসায়িক চাপ বন্ধ করার স্বার্থে ভোট প্রদানের সময় আপনাদের যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিন। আমি কোনো দলের নয়, আমি সকলের প্রার্থী।”
রুমিন ফারহানা নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে বলেন, তিনি সরাইল-আশুগঞ্জকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঠিক রক্ষা নিশ্চিত করবেন।