রাজনীতি ডেস্ক
ইনকিলাব মঞ্চ আগামী জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের জন্য ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়া এ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকার ছয়টি স্থানে অবস্থান নেওয়া হবে। এসব স্থান হলো: শাহবাগ, ধানমন্ডি, পল্লবী, মিরপুর-১০, উত্তরা ও মোহাম্মদপুর।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে প্রকাশিত এক ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানি ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার রূপকার শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার দুপুর ১২টায় ঢাকার উল্লেখিত ছয়টি স্থানে অবস্থান নেওয়া হবে।
মঞ্চের ঘোষিত চার দফা দাবি হলো: প্রথমত, খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনের সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী ও আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনিচক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে। তৃতীয়ত, যদি ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। চতুর্থত, সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর, জুমার নামাজের পর গণসংযোগ শেষ করে ফেরার পথে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ১৯ ডিসেম্বর মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।
কর্মসূচি থেকে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে চাপ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের স্থায়ী অবস্থান কর্মসূচি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আলোচিত হতে পারে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনার ফলে শহরের যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন আগেই সতর্ক করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ও বিচার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো সরব হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি এই দাবিকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আইন প্রণয়ক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা না গেলে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।