রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা নিশ্চিত করেছেন, যারা তার নির্বাচনী ক্রাউড ফান্ডিংয়ের অনুদান ফেরত চাইবেন, তাদের সবাইকে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ভিডিওবার্তায় তিনি সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের উদ্বেগ না করার আহ্বান জানান।
তাসনিম জারা জানিয়েছেন, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন এবং বলেন, “মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে আপিলে বলার মতো শক্ত আইনি যুক্তি ও অতীতের নজির রয়েছে।” তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, আপিলে জিতে আসন্ন নির্বাচনে তিনি সমর্থকদের নির্বাচিত প্রার্থী হিসেবে লড়বেন।
ক্রাউড ফান্ডিং সংক্রান্ত বিষয়েও তাসনিম জারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময়ই তিনি জানিয়েছিলেন যে, এনসিপি ছেড়ে নির্বাচনে যাওয়ার কারণে যারা অনুদান দিয়েছেন এবং টাকা ফেরত চান, তাদের তা ফেরত দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে ২০৫ জন অনুদানদাতা তাদের টাকা ফেরত চেয়েছেন এবং তাদের প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যারা এখনও টাকা ফেরত চাইবেননি, তাদের জন্য ভিডিওর ক্যাপশন ও কমেন্টে একটি ফর্মের লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছেন।
পেশাগতভাবে, তাসনিম জারা এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সমর্থক এবং ক্রাউড ফান্ডিংয়ে অংশ নেওয়া নির্বাচকরা তার সম্ভাব্য জয়কে প্রভাবিত করতে পারে। এ প্রসঙ্গে, ভোটারদের মধ্যে সমর্থকভিত্তিক মনোভাব ও নির্বাচনী ফলাফল কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এদিকে, মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণে আদালত বা আপিল প্রক্রিয়ার ফলাফল তার নির্বাচনী প্রচারণার ধারাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আপিলে জয়ী হওয়া বা না হওয়া দুটির যেকোনো ফলাফল তার নির্বাচনী দৌড় ও সমর্থক সম্প্রদায়ের মনোবলকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
তাসনিম জারার ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন যে কোনো সময় সমর্থকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। এছাড়া ক্রাউড ফান্ডিংয়ে দেওয়া অনুদানের সম্পূর্ণ ফেরতের প্রতিশ্রুতি তাকে ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছে।
এই ঘটনায় ঢাকা-৯ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক মহল তাসনিম জারার অবস্থান এবং আপিলের ফলাফলকে মনোযোগসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তার নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।