1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি: তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সহায়তা তালিকায় বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশ ক্র্যাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে মির্জা মেহেদী তমাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এই সরকারের আমলে চালু হবে না: বিমান উপদেষ্টা নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা কঠোর রাখতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশ বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাম জোট নেতাদের সাক্ষাৎ ইসি সচিব জানালেন মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রায়েরবাজার কবরস্থানে ৮ জুলাই আন্দোলনের শহীদের পরিচয় শনাক্ত সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করলে আদালত অবমাননার দায়

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর নিউ ইয়র্কের মেয়রের তীব্র প্রতিক্রিয়া

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতীয় সময়ে ৩ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই অভিযানকে সরাসরি ক্ষমতা পরিবর্তনের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তা ইউএস প্রশাসনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসনের নীতি এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সামরিক নীতিতে এর প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষত লাতিন আমেরিকার সম্পর্ক ও বিদেশনীতিতে এ ধরনের পদক্ষেপের প্রভাব কি ধরনের জটিলতা তৈরি করবে সে বিষয়ে।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার শহরের একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এই সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে তাঁর আপত্তির কথা জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এই পদক্ষেপ ফেডারেল ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। এ ধরনের একটি একতরফাভাবে সার্বভৌম দেশের ওপর সামরিক অভিযান ঘোষণা করা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মামদানি বলেন, “আমি মনে করি, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নীতির মেনে চলার বাইরে, এবং এটি আমাদের আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতার পরিপন্থি। আমাদের আইন ও আন্তর্জাতিক আইন সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হতে হবে।” তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় নিউ ইয়র্কে বসবাসরত ভেনেজুয়েলান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে এবং এটি একাধিক স্তরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।

মেয়র মামদানি নিউ ইয়র্কের বৃহত্তর কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে বলেন, “এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নিউ ইয়র্কে বসবাসরত হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান নাগরিকও এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।” তিনি বলেন যে নিউ ইয়র্কের সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানান প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকার, মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থনভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপের ন্যায়সঙ্গতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই তা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সংযুক্ত থাকে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউ ইয়র্কে ফেডারেল কারাগারে বন্দি করার পরিকল্পনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বাড়তি তথ্য হিসেবে হাজির হয়েছে। মামদানি তার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তাকে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং অধিকার ও আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এমনকি সম্ভাব্য বিচার কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানের এক আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের বিচারিক মামলা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাট পর্যবেক্ষণ এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং বিদেশি সমর্থিত বিরোধীদের সাথে সংঘর্ষের ব্যাপক পরিস্থিতির মুখে ছিলেন। তাঁর শাসনতন্ত্রের বিরোধীদলীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নীতির বিরোধিতা করে আসছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক সমর্থন নিয়ে তিনি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন। এমন এক সময়ে এই ধরনের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগকে কেন্দ্র করে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সামরিক অভিযানের বৈধতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতিসমূহ এবং মানবাধিকার প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া বেরিয়ে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়ছে এবং এর বিভিন্ন দিক ঢাকা থেকে মনিটর করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে বিকল্প কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com