1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি: তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সহায়তা তালিকায় বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশ ক্র্যাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে মির্জা মেহেদী তমাল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এই সরকারের আমলে চালু হবে না: বিমান উপদেষ্টা নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা কঠোর রাখতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশ বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাম জোট নেতাদের সাক্ষাৎ ইসি সচিব জানালেন মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রায়েরবাজার কবরস্থানে ৮ জুলাই আন্দোলনের শহীদের পরিচয় শনাক্ত সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করলে আদালত অবমাননার দায়

ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা, সেনা মোতায়েন ও মাদুরোর গ্রেফতার নিয়ে ধোঁয়াশা

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কারাকাস, ভেনেজুয়েলা, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ (নিজস্ব প্রতিনিধি) — ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। সামরিক স্থাপনা ও বিভিন্ন রাজ্যে বিস্ফোরণ এবং অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে গ্রেফতার বা আটক প্রচেষ্টার দাবি করলেও ভেনেজুয়েলা সরকার এখনো এ–সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেনি, ফলে মাদুরোর অবস্থান ও গ্রেফতার পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় এক জরুরি বার্তায় বলেন, ‘এই হামলা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সুস্পষ্ট আঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ‘ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ‘সরকারপ্রধানের নির্দেশে প্রতিরক্ষা বলয়ের আওতায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।’ পাদ্রিনো আরও বলেন, ‘মাদুরোর নির্দেশেই সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষা বলয়ের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি নাগরিকদের নিরাপদ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানান।

ভেনেজুয়েলার সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান কেবল রাজধানী কারাকাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দেশটির মিরান্ডা, আরাগওয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ, কম্পন ও ধোঁয়া প্রত্যক্ষ করার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার স্থানীয় সময় রাত ২টায় কারাকাসসহ একাধিক অঞ্চলে বিস্ফোরণ অনুভূত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় বিস্ফোরণ, সামরিক যান চলাচল ও আকাশে বিমান টহলের ইঙ্গিত মিলেছে, তবে স্বাধীনভাবে এসব তথ্যের সামরিক উৎস বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র যাচাই করা যায়নি।

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ওই দিন এক সরকারি ভাষণে বলেন, ‘এই সামরিক হামলা ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কৌশলগত প্রচেষ্টা।’ তবে তার বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে অভিযোগ এনেছেন, সেটিকে সরকারি ভাষ্য হিসেবে প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এটি এখনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বা কূটনৈতিক উৎস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। ভাষণে মাদুরো জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামো সুরক্ষায় জরুরি অবস্থা কার্যকর করা হয়েছে এবং সামরিক ও বেসামরিক সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা ও উদ্ধার কাঠামো সক্রিয় রয়েছে।’

এই পরিস্থিতিতে একই দিন সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘ভোরে ভেনেজুয়েলায় বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক বা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তবে বিবৃতিতে ট্রাম্প আটক প্রচেষ্টার স্থান, পদ্ধতি বা ফলাফল সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। হোয়াইট হাউসের ওই বিবৃতিতে অভিযানের সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। ফলে মাদুরোর প্রকৃত অবস্থান, তাকে আটক করা হয়েছে কি না বা তিনি নিরাপদে আছেন কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ‘আন্তর্জাতিক মাদক–সংক্রান্ত অপরাধ’ ও ‘অর্থ পাচার’–সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করে তার গ্রেফতারে সহায়তা দিতে ৫ কোটি মার্কিন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। যদিও এই পুরস্কার ঘোষণার আইনগত ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিচারিক কাঠামোর অংশ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রস্তাব বা নির্দেশের আওতায় এটি জারি হয়নি। ভেনেজুয়েলা সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং এটিকে ‘রাজনৈতিক চাপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, তবে প্রতিবেদনে এটিও সরকারি ভাষ্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক অভিযানের ঘোষণার পর লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের কূটনৈতিক পরিসরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলো এ ঘটনায় সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা যাতে সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো যৌথ প্রস্তাব বা কূটনৈতিক মধ্যস্থতার কাঠামো এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন ও জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো সামরিক নিয়ন্ত্রণের দিকে অধিক ঝুঁকতে পারে, যা বেসামরিক চলাচল, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নতুন সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের দাবি প্রমাণিত হলে এটি আন্তর্জাতিক আইনে ‘ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব’ নীতি ও জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের (শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ) সম্ভাব্য লঙ্ঘনের প্রশ্ন উত্থাপন করবে। যদিও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটের কাঠামোতে এ অভিযানের বৈধতা–সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কাঠামো যৌথভাবে কাজ করছে এবং উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ স্বাস্থ্য ও উদ্ধার–সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সব সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে।’

ভেনেজুয়েলায় চলমান এ উত্তেজনা দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মাদুরোর অবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান ও আটক প্রচেষ্টার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com