রাজনীতি ডেস্ক
আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ৪ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩ জানুয়ারি শনিবার রাত ৯টায় আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামে শ্রীশ্রী পাগল মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি এবং ওই ঘটনার পর তাঁর প্রতি সমর্থন বেড়েছে। তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা না করে স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। নিজের নির্বাচনী সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিজয় নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী, তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার ওপর।
আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘বহিষ্কারের ঘটনা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। মানুষ হয়তো আঘাত পেয়েছে, সে কারণেই আমার প্রতি সমর্থন বেড়েছে। আমি নিজেকে কোনো দলের প্রার্থী মনে করি না।’ বক্তব্যে তিনি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘যেদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগেই ৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।’
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন, তবে স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে, ওই সিদ্ধান্ত তাঁদের আবেগ ও রাজনৈতিক উপলব্ধিতে আঘাত করেছে।
রুমিন ফারহানা ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে তিনি আইন, গণতন্ত্র, সংসদীয় বিতর্ক, মানবাধিকার, এবং সাংবিধানিক ইস্যুতে সরব ভূমিকার জন্য পরিচিত ছিলেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক ও আইন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে দলের পক্ষে তিনি নিয়মিত বক্তব্য প্রদান করতেন। বহিষ্কারের পর তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বাইরে অবস্থান করলেও, স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আশুগঞ্জ উপজেলা মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিল্প, বিদ্যুৎ ও নদীবন্দর-নির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য পরিচিত। এই অঞ্চলে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে জনমত সাধারণত রাজনীতি-সচেতন ও নেতৃত্বের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। গত এক দশকে এখানে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিও উল্লেখযোগ্য আগ্রহ লক্ষ করা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি জনঅসন্তোষ, বহিষ্কৃত নেতার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি স্থানীয় জনমতের সম্ভাব্য ঝোঁক—এসব উপাদান রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করছে। তবে জনসমর্থন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা জরিপ তথ্য পাওয়া যায়নি।
আলোচনা সভায় স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জানান, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আশুগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় জনগণের মনোভাবের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আতাউর রহমান বাবুল, নাসির উদ্দিন মুন্সি, রাসেল বিপ্লব, হেলাল মিয়া এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আরও অনেকে। বক্তৃতা শেষে তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রদান করেননি।
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, প্রতীক বরাদ্দ, প্রচারণা, এবং ভোটগ্রহণ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও ভোটার সমর্থন সংক্রান্ত আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দলের বহিষ্কার, পদত্যাগ বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পর প্রার্থীর নির্বাচনী অবস্থান স্বতন্ত্র হিসেবে গণ্য হলে ভোটার সমর্থন মূলত প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় ইস্যু, এবং রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। বহিষ্কৃত প্রার্থীর প্রতি স্থানীয় জনগণের সমর্থন বাস্তব ভোটে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে।