সিলেট ডেস্ক
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দেশবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় এবং প্রভাবশালী।
শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরণের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব ফারজানা মাহবুব। সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
তথ্য সচিব ফারজানা মাহবুব বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, গণমাধ্যমকর্মী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই পরিবারের অংশ। তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় গুজব ও অপতথ্য রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮০০ সংবাদকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণে নির্বাচন বিষয়ক আইন, হলফনামা, বিরোধ নিষ্পত্তি, সাংবাদিক আচরণবিধি, রিপোর্টারের প্রস্তুতি, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কাভারেজ, নির্বাচন ও রাজনীতি পর্যবেক্ষণ, উপনির্বাচন, ফ্যাক্ট চেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্বাচনের পর সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নির্বাচনি আয়-ব্যয় বিষয়ক জ্ঞান প্রদান করা হবে।
এছাড়া নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন রিপোর্টিং এবং আচরণবিধি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণও এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রদান করা হবে।
কর্মশালায় সিলেট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। এই উদ্যোগ সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও নির্বাচনী কাভারেজকে আরও দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।