জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য বর্তমানে ১৩ লাখ ৭ হাজার ৯৫ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী ভোটারসহ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিজ জেলার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ২২ হাজার ২৮৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮০৬ জন। প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ নিবন্ধন হয়েছে সৌদি আরব থেকে, যেখানে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬০৯ জন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এর বাইরে মালয়েশিয়ায় ৭৬ হাজার ৬৬০ জন, কাতারে ৭৩ হাজার ৪৬৮ জন, ওমানে ৫১ হাজার ১৬৩ জন এবং কুয়েতে ৩৩ হাজার ৬০৭ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
দেশের ভেতরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৭ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে কুমিল্লা শীর্ষে রয়েছে ৯৯ হাজার ৯১৫ জন ভোটার দিয়ে, এরপর ঢাকা ৯৩ হাজার ৪৬৫ জন এবং চট্টগ্রাম ৮৩ হাজার ৭৫৯ জন ভোটারসহ অবস্থান করছে। আসনভিত্তিক নিবন্ধনে ফেনী-৩ আসন ১৫ হাজার ১৬৪ জন নিবন্ধনের মাধ্যমে সবার উপরে রয়েছে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১২ হাজার ৭৪০ জন এবং নোয়াখালী-১ আসনে ১২ হাজার ৬১২ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ দিনে বিশ্বের ৭৫টি দেশে অবস্থানরত ৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৯ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, শনিবার পর্যন্ত পাঠানো ব্যালটের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৩টি সৌদি আরবে পৌঁছেছে। এছাড়া কাতারে ৬৪ হাজার ৭০০টি এবং মালয়েশিয়ায় ৬৬ হাজার ৫৭৭টি ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে।
ভোটারদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আগে এই সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। তবে প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরের তিন ক্যাটাগরির ভোটারদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে কমিশন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৮ নভেম্বর উদ্বোধিত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৪৮টি দেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে পারছেন। এছাড়া আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররাও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই নিবন্ধন ও ব্যালট বিতরণের কার্যক্রম দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা জাতীয় নির্বাচনের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করার দিকে পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।