জাতীয় ডেস্ক
আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণ-জমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টু রোড ক্রসিং-এর মধ্যবর্তী এলাকাগুলিতেও প্রযোজ্য হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ (৪ জানুয়ারি) এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-ওওও/৭৬)-এর ২৯ ধারার অধীনে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
এ আদেশ অনুযায়ী, উল্লিখিত এলাকার যে কোনো ধরনের গণ-সমাবেশ বা প্রকাশ্য সমাবেশ আইনানুগভাবে নিষিদ্ধ হবে এবং এর উল্লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টার কর্মসূচি ও সচিবালয় এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার প্রেক্ষাপটে নেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সচরাচর প্রধান সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি জনপরিবহন ও সচিবালয় এলাকা থেকে অতিরিক্ত ভিড় ও যানজট কমানোর এক মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ এলাকায় পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, উল্লিখিত এলাকার বাইরে হলেও কোনো ধরনের অস্থায়ী সভা বা মিছিলের আয়োজন করা হলে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে।
অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন এড়ানোর জন্য প্রশাসন সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সচিবালয় এলাকায় প্রবেশের সময় পুলিশের নির্দেশ মেনে চলেন।
এ নির্দেশনার ফলে সচিবালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে জনসমাগম সীমিত থাকবে। তবে এটি শুধুমাত্র নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বার্থে নেয়া পদক্ষেপ, যা সাময়িকভাবে জনজীবন ও সাধারণ কার্যক্রমকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে।
বাংলাদেশে এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের কারণে সচিবালয় এলাকায় সাময়িক জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি প্রথাগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা দেশের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।
নাগরিকদের সচেতন থাকতে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।