জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ফার্মেসি মালিক ও বিকাশ এজেন্ট খোকন দাস (৫০) হত্যার ঘটনায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার র্যাব-৮ ও ইন্টেলিজেন্স উইং, ঢাকার তথ্য অনুযায়ী, র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে এজাহারনামীয় আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান, নিহত খোকন দাস মৃত্যুর পূর্বে হামলাকারীদের নাম শনাক্ত করে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। ভিকটিম খোকন দাস, পিতা—পরেশ দাস, নিজ এলাকায় ওষুধের দোকান ও বিকাশের এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কেহরভাঙ্গা বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন।
ভিকটিম বাড়ির কাছে তিলই এলাকায় পৌঁছালে ৩ থেকে ৪ জন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা সঙ্গে থাকা নগদ টাকা-পয়সাও ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনে ফেলার পর তারা ভুক্তভোগীর শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খোকন দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রওনক জাহান আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত এবং নানা ধরনের মাদক সেবন করে। ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বপরিকল্পিত নৃশংসতা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
র্যাবের অভিযান ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের দ্রুত সনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হওয়ায় পুলিশ আশা করছে, অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-১৪ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে, এবং ঘটনার সঙ্গে অন্যান্য সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা অপরিহার্য।
মোটমাট, হত্যাকাণ্ডটি সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করবে।