রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ তার সম্পদ এবং আয়ের তথ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রকাশ করেছেন। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামের কাছে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা জমা দেন তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, হাসনাত আবদুল্লাহর মোট সম্পদের মূল্যমান ৫০ লাখ টাকা। এতে ব্যাংকে জমা ২৬ লাখ টাকার সোনা অন্তর্ভুক্ত। তার বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার কাছে ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং ৬৫ হাজার টাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য রয়েছে। কৃষি জমি তার নামে নেই। পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তান তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
হাসনাত আবদুল্লাহ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার পেশা ব্যবসা, যার মূলধন ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। তার স্ত্রী গৃহিনী। এছাড়া তার নামে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) নির্বাচনী আসনটি একটি পৌরসভা এবং ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯।
এ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চারবারের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। হাসনাত এবারের নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন।
প্রার্থীর সম্পদ ও আয়ের তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়াটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত। এ তথ্য ভোটারদের কাছে প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা, পেশা এবং সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত সম্পর্কে ধারণা দেয়। কুমিল্লা-৪ আসনে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ এ বার নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাবশালী একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের তথ্য প্রকাশ করার নিয়ম রয়েছে, যা ভোটারদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। এই নিয়ম অনুসারে প্রার্থীকে তার স্থাবর, অস্থাবর, নগদ সম্পদ, ব্যাংক জমা, সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের তথ্য, পাশাপাশি বার্ষিক আয়ের বিবরণ প্রকাশ করতে হয়। এছাড়া চলমান বা শেষ হওয়া কোনো মামলা বা অভিযোগ থাকলে তা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
দেবিদ্বার উপজেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাই, কেন্দ্র স্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করছে। প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা যাচাই প্রক্রিয়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।
এই নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করেছে। প্রার্থী ও দলের কৌশল, সম্পদের বিবরণ এবং স্থানীয় জনসংখ্যার ভোট প্রবণতা মিলিয়ে ভোট ফলাফলের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।