রাজনীতি ডেস্ক
খুলনা-১ আসনের আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রকাশিত হয়েছে। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং জামায়াতে ইসলামীর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সনাতন শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তার হাতে নগদ ১৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৪ টাকা, অস্থাবর সম্পদ ১৯ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা রয়েছে।
হলফনামায় জানানো হয়েছে, তিনি ব্যাংকে ১৭ কোটি ৯৭ লাখ ২৪ হাজার ৯৮৪ টাকার ঋণ ধার্য করেছেন। এছাড়াও তার দখলে রয়েছে ২.৪৭ একর কৃষি জমি ও ০.৫ একর অকৃষি জমি। ডুমুরিয়া উপজেলায় তার মালিকানাধীন দুইটি তিনতলা বিশিষ্ট পাকা দালান বাড়ি রয়েছে। ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদ প্রায় দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকা, এবং উপহার হিসেবে ১৫ ভরি সোনাও তিনি পেয়েছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে কৃষ্ণ নন্দী মাধ্যমিক (এসএসসি) বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করেছেন। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই।
এই তথ্য থেকে প্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতা এবং সম্পদের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। কৃষ্ণ নন্দীর ব্যাংক ঋণ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতার প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রার্থী হিসাবে তার জমা দেওয়া হলফনামা নির্বাচনী ইলেকশন কমপ্লায়েন্সের অংশ এবং ভোটারদের জন্য প্রার্থীর আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করে।
ডুমুরিয়া উপজেলার দুইটি তিনতলা বাড়ি এবং উল্লেখযোগ্য নগদ ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর ব্যক্তিগত সম্পদকে উচ্চমাত্রায় নির্দেশ করে। প্রার্থী হিসেবে তার ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ ভোটারদের জন্য তার আর্থিক দিকের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করে।
এছাড়া প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিবারিক সম্পদের অনুপস্থিতি এবং জমা দেওয়া আয়কর রিটার্ন থেকে বোঝা যায়, প্রার্থীর আর্থিক পরিচালনা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন ও সাধারণ জনগণ পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেয়েছেন।
এই তথ্য ভোটার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নির্বাচনী প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিরীক্ষণের সুযোগ প্রদান করে। খোলাখুলিভাবে প্রকাশিত সম্পদের বিবরণ ভোট প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।